বুধবার ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংকটে থাকা ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শোনানি সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | 84 বার পঠিত | প্রিন্ট

সংকটে থাকা ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শোনানি সম্পন্ন
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংকটে থাকা ৯টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে বন্ধের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের আগে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীদের জমা রাখা আসল টাকার পুরোটা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকার প্রায় দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকার তহবিল সরবরাহ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরতের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ পুনরুদ্ধার বা সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের অর্থ আনুপাতিক হারে পরিশোধ করা হবে।

Responsive Ad Banner

এখন পর্যন্ত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, তাদের আর্থিক সক্ষমতা নেই, তাই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আগামী সপ্তাহে বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠানের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার আগে শুনানি শেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে নোটিশ পাঠিয়ে তাদের লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না তা জানতে চায়। এর মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠান সময় চাইলেও ৯টি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের বৈঠকে এসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

  • পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস

  • ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস

  • আভিভা ফাইন্যান্স

  • এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট

  • ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট

  • বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)

  • প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স

  • জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি

  • প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড

দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়া, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং গুরুতর মূলধন ঘাটতির কারণে এসব প্রতিষ্ঠান সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অবসায়ের মাধ্যমে ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া ছাড়াও, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিবিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “এখানে সাবেক বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, সাবেক আমলা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তারাও রয়েছেন। অনেকেই বছর ধরে টাকা ফেরত না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও মানবিক বিবেচনায় আমরা ব্যক্তি আমানতকারীদের পুরো আসল টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তবে ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা জানান, মালিকপক্ষের জালিয়াতি এবং ঋণ আত্মসাৎ মূলত এই সমস্যার মূল কারণ। ঋণ উদ্ধারের সম্ভাবনা কম হওয়ায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা ছাড়া ভবিষ্যতে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এফএএস ফাইন্যান্সের প্রায় ৯৯.৯৩ শতাংশ ঋণ খেলাপি। পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও ফারইস্ট ফাইন্যান্সসহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭৫–৯৮ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্রমপুঞ্জীভূত লোকসান কয়েক হাজার কোটি টাকার মধ্যে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, সমস্যা চলমান অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও ঋণের বড় অংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

Facebook Comments Box

Posted ৮:২৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

sharebazar24 |

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com